মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

খাল ও নদী।

জাহানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত ধোরসা ও মতিহার গ্রামের পার্শ্ব দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা নদীর শাখা নদী "বারনই নদী"। জানা গেছে, এক সময় বারনই নদী ছিলো উত্তরাঞ্চলের মালামাল আনা নেয়ার প্রধান পথ। বারনই নদী দিয়ে উত্তরাঞ্চলের মাত্রপত্র যেমন দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী করা হতো, তেমনি অল্প খরচে বিভিন্ন জেলা থেকে মালপত্র আমদানী করা হতো। এতে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের যানবাহন খরচ কমের পাশাপাশি অনেক লাভবান হতেন। এছাড়া আমদানী-রপ্তানীর প্রধান ধারক-বাহক হিসাবে বারনই নদী ব্যবহার হতো। যা বর্তমান চর জেগে উঠায় এই নদীর পরিত্যক্ত হিসাবে চিহ্নিত হচ্ছে। নদীতে নৌযান না চলার জন্য বর্তমান ব্যবসায়ী অধিক টাকা যানবাহন খরচ করে মালপত্র আনা নেয়া করছেন এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। রাজশাহী কাঁচা মালের বিখ্যাত অঞ্চল নামে পরিচিত। এখানকার  কাঁচামাল জেলার চাহিদা পুরণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী করা হয়। কিন্তু বর্তমান নৌপথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য কৃষকরা তাদের পণ্যের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। কৃষকদের ধারণা নদী পথে আবারও নৌযান চলাচল শুরু হলে এ অঞ্চল অল্প খরচে বিভিন্ন জেলা থেকে যেমন মালপত্র আনা-নেয়া করতে পারবে, তেমনী মালপত্র রপ্তানী করতে তাদের সুবিধা হবে। এতে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে অনেকটাই সুফল আসবে বলে ধারণা করছেন।
বর্ষা মওসুমে বাগমারা, পবা, মোহনপুর, পুঠিয়া, নাটোর নলডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা কাঁচামাল পরিবহণ করতো এই বারনই নদী দিয়ে। বিশেষ করে বারনই নদীর তীর ঘেষে তৈরি করা ছিলো পণ্য উঠা নামানোর বিভিন্ন ধরণের ঘাট। এছাড়াও এই নদীকে কেন্দ্র করে এর ধরে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন হাটবাজার। যা বর্তমানে এই নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে নদীর তীরে গড়ে উঠা হাটবাজারগুলো ইতি মধ্যে বিলিন হয়ে গেছে। আর বাকি যে দুএকটি হাটবাজার রয়েছে তা আগামী কিছু দিনের মধ্যে বিলিন হবে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।এখান থেকে প্রায় শতাধিক নৌকা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মালামাল আনা নেয়া করতো। তাহেরপুর হাটের  মালপত্র রাজশানী ঢাকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। বারনই নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে রাজধানী ঢাকার সাথে তাহেরপুর তথা এ অঞ্চলের নৌপথে সার্বিক যোগাযোগ বন্ধ হযে গেছে। এছাড়াও নৌপথে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ব্যবসায়ীরা নদী পথে পেঁয়াজ, পাট, মরিচ, কলা, পানসহ নানা কৃষি পণ্য কেনার জন্য এ অঞ্চলে আসতেন। বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এ অঞ্চলে আসার ফলে এখানে গড়ে উঠে বড়বড় কাঁচামালের আড়ৎ। বর্তমানে গড়ে উঠো আড়াৎগুলো বিলিন হয়ে গেছে।
 বারনই নদীর পানি কমে যাওয়ায়  নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য এঅঞ্চলের ব্যবসায়ী ও কৃষকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা বলেন, বারনই নদীর অনেকস্থান শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এলাকা গুলোর সাথে রাজধানীর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নলডাঙ্গা, কামারখালীসহ বিভিন্ন স্থানে পলি জমে যাওয়ায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বারনই নদী খননের দাবী জানান। ১৯৭০-৯০ এর মধ্যে কৃষিতে বাগমারা-মোহনপুরকে বরেন্দ্র সমুন্নিত উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তভক্তি করণ করা হয়। এছাড়াও এ প্রকল্পের আওতায় ছিল দূর্গাপুর, পবা, পুঠিয়া, বাঘা, চারঘাট, রানীনগর, আত্রাই ও নওগাঁসহ বেশ কিছু উপজেলা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মরুময় বরেন্দ্র ভূমির মাটিকে উর্বর করে তোলা হয়। এক ফসলি জমিকে তিন ফসলিতে রুপান্তর করা হয়। ফলে এই এলাকায় কৃষি পণ্যে ব্যাপক বিপ¬ব ঘটে। কিন্তু বারনই নদী শুকিয়ে যাওয়ার জন্য গত কয়েক বছরে এঅঞ্চলের মাটি একেবারে অনুর্বরে পরিণত হয়েছে। নদীর পলি মাটির জন্য নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকার জমি উর্বর হলেও বর্তমান এসব জমির উর্বরতা হ্রাস পেয়েছে। উৎপাদন কমে গেছে অনেকাংশে। উত্তরাঞ্চলের প্রধান পরিবহণ ক্ষেত্র বারনই নদী খনন করে নৌ চলাচলের উপযোগি করে তোলা হলে এ অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্যের উন্নয়ন হওয়া সম্ভব বলে  সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

ছবি



Share with :

Facebook Twitter